প্রচ্ছদ > খেলা > ফুটবল

রোনালদোকে নিয়ে কোহলির সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ফের একই ভুল করছে ফুটবল বিশ্ব!

article-img

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে আবারও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বুধবার (১৭ জুন) ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকেই মূলত এই সমালোচনার শুরু। 

৪১ বছর বয়সে এসেও রোনালদোকে পর্তুগালের আক্রমণভাগ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটিতে ১৪৩টি আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ডধারী এই তারকাকে নিজের ছায়া হয়ে থাকতেই দেখা গেছে। এই একটি ম্যাচই পণ্ডিত এবং সমর্থকদের জন্য দলে তার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। 

তবে রোনালদো যখন তীব্র সমালোচনায় কোণঠাসা, ঠিক তখনই আজ থেকে তিন বছর আগে বিরাট কোহলির দেওয়া একটি সতর্কবার্তা বিশ্ববাসীর মনে করা প্রয়োজন। কারণ কোহলিকেও তার ক্যারিয়ারের শেষ কয়েক বছরে রোনালদোর মতোই প্রায় একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। 

তিন বছর আগের সেই সতর্কবার্তা

সে সময় আল হিলাল এবং আল নাসরের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত ‘রিয়াদ অল-স্টার্স’-এর হয়ে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের পিএসজির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন রোনালদো। ম্যাচটিতে রোনালদোর দল ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয় এবং পর্তুগাল তারকা একাই দুটি গোল করেন। ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল পণ্ডিতদের ধুয়ে দিয়েছিলেন কোহলি।

রোনালদোর প্রতি সবসময়ই নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করা কোহলি লিখেছিলেন, ‘৩৮ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা যারা প্রতি সপ্তাহে স্রেফ প্রচার পাওয়ার জন্য তার সমালোচনা করেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্সের পর তারা আজ সুবিধাজনকভাবে চুপ হয়ে গেছেন। অথচ বলা হচ্ছিল তিনি নাকি ফুরিয়ে গেছেন!’ 

ফর্ম নাকি বোঝাপড়ার অভাব?

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে রোনালদো এখন আর আগের সেই খেলোয়াড়টি নন—যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা জুভেন্টাসের হয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখতেন। কিন্তু অনেকেই এই সত্যটি এড়িয়ে যাচ্ছেন যে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমেও তিনি আল নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৮টি গোল করেছেন। 

বর্তমান পর্তুগাল দলে তার যা অভাব, তা আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ার; কারণ তার সতীর্থরা রোনালদোর চেয়ে অনেক দ্রুতগতির এবং চ্যালেন্জিং লিগে খেলে থাকেন।

প্রশ্ন তোলা বা সমালোচনা করা যেতেই পারে, তবে রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তি—যিনি ফুটবল ইতিহাসের বহু সোনালী মুহূর্তের কারিগর, তাকে এভাবে উপহাস করার একটা সীমা থাকা উচিত।

২০২২ বিশ্বকাপ এবং কোহলির শ্রদ্ধাঞ্জলি

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে যখন পর্তুগাল বিদায় নেয়, তখনও রোনালদোর প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছিলেন কোহলি। তার সেই আবেগঘন বার্তা আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দেয়, ‘কোনো ট্রফি বা খেতাবই এই খেলাধুলার প্রতি এবং বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে আপনার অবদানকে কেড়ে নিতে পারবে না। আপনি মানুষের মনে যে প্রভাব ফেলেছেন, তা কোনো খেতাব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। প্রতিবার মাঠে নেমে আপনি যেভাবে উজাড় করে খেলেন, তা কঠোর পরিশ্রম এবং উৎসর্গের এক অনন্য প্রতীক এবং যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্য এক সত্যিকারের অনুপ্রেরণা। আমার কাছে আপনিই সর্বকালের সেরা।’ 

রোনালদোর সামনে এখন কীসের অপেক্ষা?

বিশ্বকাপের পর রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় পর্তুগাল জার্সিতে তার ভবিষ্যৎ কী, তা লুকিয়ে আছে ২০১৯ সালে কোহলির দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে। দীর্ঘ সাত বছর পরেও রোনালদোর কাজের প্রতি নিষ্ঠা বিন্দুমাত্র কমেনি।

কোহলি ফিফা ডট কম-কে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে ক্রিশ্চিয়ানো সবার উপরে। তার প্রতিশ্রুতি এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা অতুলনীয়। প্রতি ম্যাচেই জেতার জন্য তার সেই তীব্র ক্ষুধা দেখা যায়। তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেন।’ 

ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাক্কাই রোনালদোকে আরও শক্তিশালী করে, নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরতে এবং সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে বাধ্য করে। পর্তুগাল যখন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায়, তখন রোনালদোর কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্সের চেয়ে কম কিছু আশা করা ভুল হবে। 

মাঠে রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি হতে পারেন, তবে মাঠের বাইরে অন্য একটি খেলায় বিরাট কোহলির আচরণ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার জেদ পুরোপুরি রোনালদোর সঙ্গে মিলে যায়। 

ভারতীয় ওয়ানডে দলের ৩ নম্বর পজিশনে যেভাবে কোহলি সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন, ঠিক একইভাবে আগামী ম্যাচগুলোতে রোনালদোও বিশ্বকে চমকে দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার ভক্তদের।